Noc কি? Noc মানে কি? Go কি? বিস্তারিত জানুন
সরকারি চাকুরিজীবীদের পাসপোর্ট: NOC এবং GO আসলে কী? বিস্তারিত
আস সালামু আলাইকুম ট্রিকবিডিফ্রি.কম TrickBD Free ( TrickBDFree.com ) এর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো Noc কি? এনওসি মানেনকি? Go মানে কি বা Go কি বিস্তারিত আলোচনা।
Noc মানে কি? Go মানে কি?
সরকারি চাকুরিজীবীদের পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন এবং অনেক ক্ষেত্রে সহজ। তবে আবেদনের আগে দুটি শব্দ নিয়ে অনেকের মনেই কনফিউশন থাকে— NOC এবং GO।
আপনি যদি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হন, তবে পাসপোর্ট করার আগে এই দুটি বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। চলুন জেনে নিই এগুলোর কাজ কী এবং কেন এগুলো প্রয়োজন।
১. NOC কি? এনওসি মানে কি? (অনাপত্তি সনদ) কী?
NOC এর পূর্ণরূপ হলো No Objection Certificate বা অনাপত্তি সনদ।
যখন কোনো সরকারি কর্মচারী ব্যক্তিগত প্রয়োজনে (যেমন: বিদেশ ভ্রমণ, হজ পালন বা চিকিৎসা) পাসপোর্ট করতে চান, তখন তাকে তার নিজ কর্মস্থল বা দপ্তর থেকে একটি লিখিত অনুমতি নিতে হয়। এটিই হলো NOC।
NOC থাকলে কী সুবিধা পাওয়া যায়? noc কি কাজে লাগে
পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না: বৈধ NOC জমা দিলে আপনার বর্তমান ঠিকানায় পুলিশি তদন্তের প্রয়োজন হয় না।
দ্রুত পাসপোর্ট প্রাপ্তি: ভেরিফিকেশন ঝামেলা না থাকায় সাধারণ আবেদনের চেয়ে অনেক দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়।
মেয়াদ: একটি NOC ইস্যু হওয়ার তারিখ থেকে সাধারণত ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
২. GO (সরকারি আদেশ) কী?
GO এর পূর্ণরূপ হলো Government Order বা সরকারি আদেশ।
এটি সাধারণত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। যখন কোনো সরকারি কর্মচারী ব্যক্তিগত কারণে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় বা দাপ্তরিক কাজে (যেমন: ট্রেনিং, কনফারেন্স বা ডেলিগেশন) বিদেশ ভ্রমণে যান, তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে একটি আদেশ জারি করা হয়। একেই বলা হয় GO।
GO থাকলে কী সুবিধা পাওয়া যায়?
অফিসিয়াল পাসপোর্ট: GO থাকলে আপনি সাধারণ সবুজ পাসপোর্টের পরিবর্তে নীল রঙের অফিসিয়াল পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
ফি ও ভেরিফিকেশন মুক্ত: সরকারি আদেশে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো পাসপোর্ট ফি এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না।
৩. NOC এবং GO এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | NOC (অনাপত্তি সনদ) | GO (সরকারি আদেশ) |
| ভ্রমণের ধরন | ব্যক্তিগত (ছুটি নিয়ে) | সরকারি বা দাপ্তরিক কাজ |
| পাসপোর্টের রং | সাধারণ সবুজ পাসপোর্ট | নীল (অফিসিয়াল) পাসপোর্ট |
| প্রদানকারী | আপনার নিজ অফিস/কর্তৃপক্ষ | সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় |
| পুলিশ ভেরিফিকেশন | প্রয়োজন হয় না | প্রয়োজন হয় না |
৪. আবেদন করার সময় যা মনে রাখবেন
১. অনলাইন ফরমে তথ্য: ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণ করার সময় পেশা হিসেবে অবশ্যই 'Government Service' সিলেক্ট করতে হবে।
২. অফিসে জমা: বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন এনআইডি কার্ডের সাথে মূল NOC বা GO কপিটি অবশ্যই পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে।
৩. অনলাইন ভেরিফিকেশন: বর্তমানে অনেক সরকারি দপ্তরের NOC তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপলোড করা থাকে। পাসপোর্ট অফিস থেকে সেগুলো অনলাইনে যাচাই করা হয়।
শেষ কথা
সরকারি চাকুরি করলে পাসপোর্ট করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। সঠিক সময়ে সঠিক ডকুমেন্ট সংগ্রহ করলে আপনি কোনো ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পেতে পারেন।
পাসপোর্ট সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. বিবাহিত হলে কি পাসপোর্টে স্বামী/স্ত্রীর নাম দেওয়া বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ, বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ফর্মে বৈবাহিক অবস্থা 'Married' সিলেক্ট করলে স্বামী বা স্ত্রীর নাম উল্লেখ করতে হয়। এটি ভবিষ্যতে ফ্যামিলি ভিসা বা ইমিগ্রেশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
২. কাবিননামা বা নিকাহনামা কি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হয়?
উত্তর: সাধারণত এনআইডি কার্ডে স্বামী/স্ত্রীর নাম থাকলে কাবিননামা লাগে না। তবে যদি এনআইডিতে নাম না থাকে বা তথ্যে অমিল থাকে, তবে কাবিননামার সত্যায়িত কপি সাথে রাখা নিরাপদ। অনেক সময় ভেরিফিকেশনের জন্য এটি চাওয়া হয়।
৩. NOC থাকলে কি সত্যিই পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না?
উত্তর: জি, সরকারি চাকুরিজীবীরা যদি বৈধ অনাপত্তি সনদ (NOC) জমা দেন, তবে তাদের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন মওকুফ করা হয়। এতে পাসপোর্ট অনেক দ্রুত পাওয়া যায়।
৪. আমার এনআইডি কার্ড নেই, আমি কি পাসপোর্ট করতে পারব?
উত্তর: ১৮ বছরের নিচে হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট করা যায়। তবে ১৮ বছরের বেশি হলে এনআইডি কার্ড (NID) অথবা এনআইডি প্রাপ্তির স্লিপ ও অনলাইন জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদন করা সম্ভব।
৫. পাসপোর্টে পেশা পরিবর্তন করতে চাইলে কী করতে হবে?
উত্তর: পেশা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট পেশার প্রমাণপত্র (যেমন: স্টুডেন্ট আইডি কার্ড, অফিসের আইডি কার্ড বা ট্রেড লাইসেন্স) আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।
৬. ই-পাসপোর্ট ফি কত এবং কোথায় জমা দেব?
উত্তর: ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর) এবং পৃষ্ঠার সংখ্যার ওপর। এই ফি সোনালী, ওয়ান, প্রিমিয়ার, ট্রাস্ট, ঢাকা বা ব্যাংক এশিয়ায় অথবা সরাসরি অনলাইনে (বিকাশ/নগদ/কার্ড) এ-চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া যায়।
৭. ভুল তথ্য দিয়ে ফেললে সংশোধনের উপায় কী?
উত্তর: আবেদন সাবমিট করার পর ভুল ধরা পড়লে, বায়োমেট্রিক দেওয়ার আগে পাসপোর্ট অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে তা সংশোধন করা যায়। তবে বায়োমেট্রিক হয়ে গেলে সংশোধন প্রক্রিয়া বেশ জটিল।
