বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? জানুন বিস্তারিত

বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? (ই-পাসপোর্ট ২০২৬)

বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

আস সালামু আলাইকুম ট্রিকবিডিফ্রি.কম TrickBD Free ( TrickBDFree.com ) এর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? (ই-পাসপোর্ট ২০২৬) বিস্তারিত আলোচনা।

বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা বা চাকরির প্রয়োজনে পাসপোর্ট এখন অপরিহার্য। তবে অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিতদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ায় সামান্য কিছু ভিন্নতা রয়েছে। বিশেষ করে পাসপোর্টে স্বামী বা স্ত্রীর নাম যুক্ত করা এবং বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়।

আজকের ব্লগে আমরা জানাবো বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে বর্তমানে কী কী লাগে এবং আবেদনের সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি।


বিবাহিতদের পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

বাংলাদেশে বর্তমানে ই-পাসপোর্ট (e-Passport) চালু থাকায় প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ। বিবাহিত আবেদনকারীদের জন্য মূলত নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন:

১. অনলাইন আবেদনপত্রের কপি (Application Summary)

প্রথমে আপনাকে epassport.gov.bd পোর্টালে গিয়ে নির্ভুলভাবে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণ শেষে 'Application Summary' এবং 'Full Application Form' প্রিন্ট করে নিতে হবে।

২. এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন (NID/BRC)

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবার জন্য এনআইডি কার্ডের মূল কপি এবং ফটোকপি বাধ্যতামূলক।

  • জন্ম নিবন্ধন (BRC): যদি এনআইডি না থাকে, তবে অনলাইন ভেরিফাইড ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে।

৩. বৈবাহিক অবস্থার প্রমাণপত্র (নিকাহনামা)

আপনি যদি পাসপোর্টে নিজের স্ট্যাটাস 'Married' উল্লেখ করেন, তবে অবশ্যই নিকাহনামা বা কাবিননামার (Marriage Certificate) সত্যায়িত ফটোকপি সাথে রাখতে হবে। অনেক সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন বা পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিতির সময় এটি চেক করা হয়।

৪. স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের কপি

আবেদন ফর্মে স্বামী বা স্ত্রীর নাম উল্লেখ করতে হয়। তাই নির্ভুল তথ্যের জন্য আপনার স্পাউসের এনআইডি কার্ডের একটি ফটোকপি সাথে রাখুন। মনে রাখবেন, স্পাউসের নামের বানান যেন তার এনআইডি অনুযায়ী হয়।

৫. পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার রশিদ

অনলাইনে (বিকাশ, নগদ, কার্ড) বা ব্যাংকের মাধ্যমে এ-চালানে ফি জমা দিয়ে সেই পেমেন্ট স্লিপ বা রশিদটি প্রিন্ট করে নিতে হবে।


কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট

  • পেশাগত প্রমাণপত্র: আপনি যদি সরকারি কর্মকর্তা হন, তবে NOC বা GO লাগবে। বেসরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য অফিসের আইডি কার্ড বা ভিজিটিং কার্ড সাথে রাখা ভালো।

  • ঠিকানা পরিবর্তন: স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা ভিন্ন হলে এবং নতুন ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন চাইলে বর্তমান ঠিকানার বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি সংগ্রহে রাখুন।

  • পুরানো পাসপোর্ট: আপনার যদি আগে কোনো হাতে লেখা বা এমআরপি (MRP) পাসপোর্ট থেকে থাকে, তবে আবেদনের সময় সেটি অবশ্যই সাথে নিয়ে যেতে হবে।


পাসপোর্টের আবেদন করার ধাপসমূহ

  1. অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: ই-পাসপোর্ট পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে ফরম পূরণ করুন।

  2. ফি প্রদান: মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে (৫ বা ১০ বছর) ফি পরিশোধ করুন।

  3. স্লট বুকিং: বায়োমেট্রিক (ছবি ও আঙুলের ছাপ) দেওয়ার জন্য সুবিধাজনক তারিখ ও সময় বেছে নিন।

  4. অফিস ভিজিট: নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় সব মূল কাগজপত্রসহ পাসপোর্ট অফিসে হাজির হোন।


শেষ কথা

বিবাহিতদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের তথ্যে স্বামী বা স্ত্রীর নাম যুক্ত করাটা ভবিষ্যতের ভিসা প্রসেসিং বা ফ্যামিলি ইমিগ্রেশনের জন্য বেশ সহায়ক। তাই আবেদন করার সময় তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করুন।

আপনার যদি কোনো বিষয় জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এইরকম আরো ইন্টারেস্টিং আনকমন সকল বিষয় তথ্য জানতে আমাদের ব্লগ ওয়েবসাইট (বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্লগ) Trick BD Free ( www.TrickBDFree.com ) এর সঙ্গেই থাকুন ।পোস্টে কোথাও ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন ধন্যবাদ আল্লাহ হাফেজ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url