লাখ টাকার ফোনেও কেন মিলছে না চার্জার? পরিবেশ প্রেম নাকি পকেট কাটার নতুন ফন্দি!
লাখ টাকার ফোনেও কেন মিলছে না চার্জার? পরিবেশ প্রেম নাকি পকেট কাটার নতুন ফন্দি!
একসময় নতুন মোবাইল ফোন কেনার পর বাক্স খোলার আনন্দই ছিল আলাদা! ফোনটির সাথে উপহার হিসেবে পাওয়া যেত ব্র্যান্ডের লোগো দেওয়া চার্জার, ইয়ারফোন, কেব্ল এবং সুন্দর একটি ব্যাক কাভার।
কিন্তু আজ পরিস্থিতি একদম বদলে গেছে। ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা দিয়ে নতুন একটি প্রিমিয়াম ফোন কেনার পর বাক্স খুললে দেখা যায়, ফোনের সাথে স্রেফ একটি কেব্ল ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!
২০২০ সালে আইফোন ১২ (iPhone 12) প্রকাশের মাধ্যমে অ্যাপল প্রথম বক্সে চার্জার দেওয়া বন্ধ করে। এরপরের বছরই স্যামসাং একই পথে হাঁটে। বর্তমানে গুগল পিক্সেল, নকিয়াসহ বড় বড় বেশ কিছু ব্র্যান্ড বক্সে চার্জার দেওয়া প্রায় বন্ধই করে দিয়েছে।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন—কোম্পানিগুলো হঠাৎ করে এত বড় পরিবর্তন আনল কেন? এর পেছনে আসল কারণ কী?
১. পরিবেশ রক্ষার দাবি: কতটা যুক্তিযুক্ত?
ফোন কোম্পানিগুলোর দাবি অনুযায়ী, বক্সে চার্জার না দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলেকট্রনিক বর্জ্য (E-waste) কমানো এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধ করা।
বাড়িতে জমা থাকা পুরোনো চার্জার: কোম্পানিগুলোর মতে, বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ঘরেই আগে থেকে ২-৩টি পুরোনো চার্জার থাকে। ফলে প্রতিটা নতুন ফোনের সাথে অতিরিক্ত চার্জার দিলে কোটি কোটি টন অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়।
ছোট বাক্স ও কম কার্বন নির্গমন: বক্সে চার্জার না থাকায় ফোনের বাক্স এখন অনেক পাতলা। ফলে একটি শিপিং কন্টেইনারে আগের চেয়ে প্রায় ৬০% বেশি ফোন একবারে পরিবহন করা যায়। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হয় এবং কার্বন নিঃসরণ কমে।
২. পরিবেশের আড়ালে কোটি কোটি টাকার গোপন ব্যবসা!
পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি শুনতে দারুণ লাগলেও, এর মুদ্রার উল্টো পিঠে লুকিয়ে আছে কোম্পানিগুলোর অসামান্য ব্যবসায়িক লাভ:
ক) শত শত কোটি টাকা উৎপাদন খরচ বাঁচানো
প্রতিটি ফোনের সাথে চার্জার না দেওয়া এবং বাক্সের আকৃতি ছোট করার কারণে কোম্পানিগুলোর শিপিং ও ম্যানুফ্যাকচারিং খরচ বহুগুণ কমে গেছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফোন বিক্রির হিসেবে এই জমানো অর্থের পরিমাণ বিশাল।
খ) আলাদা চার্জার বিক্রির অতিরিক্ত আয়
যাদের নতুন চার্জার ছাড়া উপায় নেই (যেমন প্রথমবারের স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বা দ্রুত চার্জিং পেতে চাওয়া গ্রাহক), তাদের বাধ্য হয়ে আলাদা টাকা খরচ করে পাওয়ার অ্যাডাপ্টার কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ, যে পণ্যটি আগে ফোনের সাথেই মিলত, সেটির জন্য এখন আবার পকেট কাটতে হচ্ছে।
গ) আলাদা প্যাকেজিংয়ের বিরূপ প্রভাব
আপনি যখন দোকান থেকে আলাদা একটি চার্জার কিনছেন, সেটিও কিন্তু আবার প্লাস্টিক ও কাগজের নতুন প্যাকেটেই আসছে! এতে পরিবেশের বর্জ্য বাস্তবে কতটা কমছে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকে যায়।
৩. ফাস্ট চার্জিং ও ইউএসবি টাইপ-সি (USB-C) এর হিসাব-নিকাশ
বর্তমান যুগে ১০-১৫ মিনিটে ফোন ফুল চার্জ করার মতো ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি এসেছে। কিন্তু সমস্যা হলো, ঘরের পুরোনো ৫ বা ১০ ওয়াটের সাধারণ চার্জার দিয়ে নতুন ফোনের এই সুপার-ফাস্ট চার্জিং সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।
ফলে বাধ্য হয়েই ক্রেতাকে নতুন প্রযুক্তির হাই-ওয়াট চার্জার আলাদাভাবে কিনতেই হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ইউএসবি টাইপ-সি (USB Type-C) প্রযুক্তির প্রসারের কারণে এখন একটিমাত্র ভালো মানের চার্জার দিয়ে ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট—সবকিছু চার্জ করা যাচ্ছে।
গ্রাহকদের জন্য সঠিক সমাধান কী হতে পারে?
অভিজ্ঞ প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিগুলোর উচিত ক্রেতাদের ‘পছন্দ করার সুযোগ’ দেওয়া:
চার্জার ছাড়া বক্স: যাদের ঘরে আগে থেকেই উপযুক্ত চার্জার রয়েছে, তারা কিছুটা কম দামে কেবল ফোনটি কিনতে পারবেন।
চার্জারসহ বক্স: যাদের সত্যিই নতুন চার্জারের প্রয়োজন, তারা সামান্য কিছু বাড়তি মূল্যে চার্জারসহ বক্স বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ - Mobile Friendly)
১. প্রথম কোন কোম্পানি ফোনের বাক্স থেকে চার্জার বাদ দিয়েছিল?
২০২০ সালে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল (Apple) তাদের আইফোন ১২ সিরিজের মাধ্যমে প্রথম বক্সে চার্জার দেওয়া বন্ধ করে।
২. ফোন কোম্পানিগুলো কেন বক্সে চার্জার দিচ্ছে না?
মূলত পরিবেশ সুরক্ষা (ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমানো) এবং শিপিং ও প্যাকেজিং খরচ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে।
৩. পুরোনো চার্জার দিয়ে কি নতুন ফোন চার্জ দেওয়া নিরাপদ?
হ্যাঁ, চার্জারটি যদি ভালো মানের ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে ফোন চার্জ হবে। তবে নতুন ফোনের ফাস্ট চার্জিং স্পিড পাবেন না।
৪. চার্জার বাদ দেওয়ার ফলে কি ফোনের দাম কমেছে?
না, কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ কমলেও ফোনের দাম কমার কোনো প্রত্যক্ষ সুফল ক্রেতারা পাননি।
৫. ফাস্ট চার্জিং সুবিধার জন্য কি আলাদা চার্জার কেনা লাগবে?
হ্যাঁ, ফোনের সর্বোচ্চ ফাস্ট চার্জিং স্পিড পেতে হলে সঠিক ওয়াটের চার্জার আলাদাভাবে কিনতে হবে।
৬. ইউএসবি টাইপ-সি (USB-C) পোর্ট ব্যবহারে কী সুবিধা?
একটিমাত্র টাইপ-সি চার্জার দিয়ে ল্যাপটপ, ফোন, ট্যাবলেট ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস চার্জ দেওয়া যায়।
৭. আলাদা চার্জার কিনলে কি পরিবেশের লাভ সত্যি হয়?
না, কারণ আলাদা চার্জার কেনার সময়ও নতুন প্যাকেজিং ও শিপিংয়ের ফলে আবার বর্জ্য তৈরি হয়।
৮. সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কি এখন চার্জার বন্ধ?
না, প্রিমিয়াম সেগমেন্টে বন্ধ হলেও অনেক বাজেট ও মিড-রেঞ্জ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এখনো বক্সে চার্জার দেওয়া হয়।
৯. ই-বর্জ্য বা E-Waste কী?
নষ্ট বা ফেলে দেওয়া ইলেকট্রনিক পণ্য (যেমন: পুরোনো চার্জার, ক্যাবল, ব্যাটারি) যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে।
১০. এই ব্যবস্থার সবচেয়ে ভালো সমাধান কী?
বিক্রির সময় ক্রেতাকে চার্জারসহ বা চার্জার ছাড়া নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বক্স বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া।
আপনার যদি কোনো বিষয় জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এইরকম আরো ইন্টারেস্টিং আনকমন সকল বিষয়ের তথ্য জানতে আমাদের ব্লগ ওয়েবসাইট (বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্লগ) TrickBD Free ( www.TrickBDFree.com ) এর সঙ্গেই থাকুন ।পোস্টে কোথাও ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন ধন্যবাদ আল্লাহ হাফেজ।৷
.webp)