ফেসবুক-ইউটিউবের জন্য টিন খুলে বিপাকে পড়েছেন? জেনে নিন ই-টিন চিরতরে বাতিলের অফলাইন নিয়ম

ফেসবুক-ইউটিউবের জন্য টিন খুলে বিপাকে পড়েছেন? জেনে নিন ই-টিন চিরতরে বাতিলের অফলাইন নিয়ম

ফেসবুক-ইউটিউবের জন্য টিন খুলে বিপাকে পড়েছেন? জেনে নিন ই-টিন চিরতরে বাতিলের অফলাইন নিয়ম

বর্তমান সময়ে অনেকেই ফেসবুক পেজ পরিচালনা, ইউটিউব চ্যানেল, অনলাইন ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল কাজের জন্য হুট করে একটি ই-টিন (e-TIN) বা টিন সার্টিফিকেট খুলে ফেলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, অনলাইন থেকে কাঙ্ক্ষিত আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—বর্তমান সরকার সবার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করায়, আয় না থাকলেও বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিয়মিত জিরো বা শূন্য রিটার্ন (0 Return) জমা দেওয়ার ঝামেলা পোহাতে গিয়ে অনেকে এখন চরম দিশাহারা।

টিআইএন কী এবং কেন বাতিলের কথা ভাবেন অনেকে?

টিআইএন (Taxpayer Identification Number) হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে দেওয়া ১২ সংখ্যার একটি পরিচিতি নম্বর, যার মাধ্যমে একজন করদাতার করসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে টিন বা ই-টিআইএন থাকলে আয় না থাকলেও শূন্য রিটার্ন জমা দিতে হয়। যাঁরা শুধু ফেসবুক, ইউটিউব বা অনলাইনে টুকটাক কাজের জন্য টিআইএন নিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে এই বাধ্যবাধকতা এখন একটি বাড়তি বোঝা মনে হচ্ছে।

অনলাইনে কি টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার কোনো সিস্টেম আছে?

খুব পরিষ্কারভাবে জেনে রাখুন—বর্তমানে অনলাইনে সরাসরি ই-টিন বা টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার কোনো ডিজিটাল সিস্টেম বা অপশন নেই।

যেহেতু অনলাইন থেকে সরাসরি এটি বন্ধ করা যায় না, তাই আপনার টিন সার্টিফিকেটটি চিরতরে বাতিল করতে হলে আপনাকে অফলাইনে (সরাসরি কর অফিসে গিয়ে) আবেদন করতে হবে।

কোন কোন ক্ষেত্রে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়?

সবাই চাইলেই টিআইএন বাতিল করতে পারেন না। কেবল নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বাতিলের আবেদন করা সম্ভব:

  • ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে।

  • ভুলবশত একই ব্যক্তির নামে একাধিক টিআইএন নেওয়া হলে (অতিরিক্তটি বাতিল করা যায়)।

  • যে উদ্দেশ্যে টিআইএন নেওয়া হয়েছিল তা শেষ হলে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো প্রয়োজন না থাকলে।

  • করযোগ্য আয়ের সীমার নিচে থাকলে এবং আয়ের অন্য কোনো উৎস না থাকলে।

  • প্রবাসী হয়ে বিদেশে অবস্থান করলে এবং বাংলাদেশে কর দেওয়ার মতো কোনো আয় না থাকলে।

  • করদাতার মৃত্যু হলে বৈধ উত্তরাধিকারীরা আবেদন করতে পারবেন (মৃত্যু সনদ ও সম্পর্কের প্রমাণপত্র সাপেক্ষে)।

  • টানা কয়েক বছর আয় শূন্য থাকলে এবং শারীরিক অক্ষমতাসহ অন্য কোনো যুক্তিসংগত কারণে ভবিষ্যতেও আয়ের কোনো সম্ভাবনা না থাকলে।

আবেদনের আগে যে শর্তগুলো মিলতে হবে

আপনি যেকোনো একটি কারণে যোগ্য হলেও কর কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদনে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করবে: 

১. কোনো ধরনের বকেয়া কর থাকা চলবে না। 

২. কর নির্ধারণের কোনো কার্যক্রম চলমান থাকতে পারবে না। 

৩. আয়কর-সংক্রান্ত কোনো মামলা বা বিরোধ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা যাবে না। 

৪. আবেদনে যে কারণ দেখানো হয়েছে, তা পুরোপুরি সত্য হতে হবে।

অফিসে গিয়ে যেভাবে টিআইএন বাতিল করবেন

অনলাইনে যেহেতু আবেদনের সুযোগ নেই, তাই নিকটস্থ কর অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সঙ্গে যা যা রাখতে হবে:

  • টিআইএন সনদের কপি।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর কপি।

  • ব্যবসা বা কাজের ক্ষেত্র বন্ধের প্রমাণপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)।

  • আগের বছরগুলোর শূন্য রিটার্নের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র।

  • অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ও সাপোর্টিং কাগজপত্র।

খরচ: সাধারণত টিআইএন বাতিলের জন্য সরকারিভাবে আলাদা কোনো ফি বা খরচ লাগে না।

টিন সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদন ফরম (PDF Download)

আপনার সুবিধার জন্য টিন সার্টিফিকেট বাতিলের অফিশিয়াল আবেদন ফরমটি নিচে যুক্ত করে দেওয়া হলো। লিংক থেকে ফরমটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন:

ফেসবুক-ইউটিউবের জন্য টিন খুলে বিপাকে পড়েছেন? জেনে নিন ই-টিন চিরতরে বাতিলের অফলাইন নিয়ম

বাতিলের পর কী হয় ও কিছু সতর্কতা

  • বাতিলের পর: ওই টিআইএন নম্বরের জন্য আর কখনো রিটার্ন জমা দিতে হয় না এবং টিআইএনটি চিরতরে নিষ্ক্রিয় (Dormant) হয়ে যায়। এনবিআর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনার পূর্বের তথ্য সংরক্ষণ করে।

  • সতর্কতা: বকেয়া কর পরিশোধ না করেই আবেদন করলে তা গৃহীত হবে না। ভুল বা বানোয়াট কারণ দেখালে আবেদন বাতিল তো হবে না সাথে আইনি জরিমানার মুখেও পড়তে হতে পারে।

  • অনুমোদনের অপেক্ষা: শুধু আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে যায় না; কর কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১. অনলাইনে কি টিন সার্টিফিকেট বাতিল করা যায়?

উত্তর: না, বর্তমানে অনলাইনে সরাসরি টিন সার্টিফিকেট বাতিলের কোনো সিস্টেম চালু নেই।

২. তাহলে কীভাবে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে?

উত্তর: অফলাইনে ফরম পূরণ করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর অফিসে গিয়ে আবেদন করে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে।

৩. ফেসবুক বা ইউটিউবের কাজের জন্য খোলা টিন কি বাতিল করা যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, আপনার যদি সেখান থেকে আয় না থাকে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো প্রয়োজন না হয়, তবে আপনি কর অফিসে আবেদন করে এটি বাতিল করতে পারবেন।

৪. টিআইএন বাতিল করতে কি কোনো সরকারি ফি লাগে?

উত্তর: না, টিআইএন সার্টিফিকেট বাতিলের জন্য সাধারণত কোনো সরকারি ফি বা খরচ লাগে না।

৫. শুধু রিটার্নের ঝামেলা এড়াতে কি টিন সার্টিফিকেট বাতিল করা উচিত?

উত্তর: ভবিষ্যতে ব্যাংক, ব্যবসা বা বড় কোনো প্রয়োজনে টিআইএন লাগতে পারে। তাই সব দিক ভেবে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url