৫জি-র পর আসছে ৬জি: কী এই প্রযুক্তি এবং কবে নাগাদ শুরু হচ্ছে ইন্টারনেটের ষষ্ঠ প্রজন্ম?
৫জি-র পর আসছে ৬জি: কী এই প্রযুক্তি এবং কবে নাগাদ শুরু হচ্ছে ইন্টারনেটের ষষ্ঠ প্রজন্ম?
মোবাইল ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ৫জি (5G)-র বিস্তার এখনো সব দেশে পুরোপুরি পৌঁছায়নি। কিন্তু এর মধ্যেই বিশ্বজুড়ে শোরগোল শুরু হয়ে গেছে পরবর্তী প্রজন্মের যোগাযোগপ্রযুক্তি ৬জি (6G) নিয়ে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ৬জি কেবল ডাটা আদান-প্রদানের গতি বাড়াবে না, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারের ধারণাই বদলে দেবে।
কিন্তু ৫জি থাকতে থাকতে ৬জি নিয়ে এত তোড়জোড় কেন? এবং বাস্তবে কবে নাগাদ সাধারণ মানুষ এই প্রযুক্তির সুবিধা পাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
৬জি কী?
সহজ ভাষায়, ৬জি হলো ওয়ারলেস বা মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তির ষষ্ঠ প্রজন্ম। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU) ৬জি প্রযুক্তিকে দাপ্তরিকভাবে ‘আইএমটি-২০৩০’ (IMT-2030) নাম দিয়েছে।
এটি কেবল ৩জি, ৪জি বা ৫জি-র মতো সাধারণ নেটওয়ার্ক সিস্টেম নয়। ৬জি-তে ইন্টারনেটের গতির পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অ্যাডভান্সড সেন্সিং প্রযুক্তি।
৬জি প্রযুক্তি কী?
৬জি কেবল ইন্টারনেটের গতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম নয়, এটি একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বহুমুখী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ইন্টিগ্রেশন:
৬জি নেটওয়ার্ক ডিজাইন করা হচ্ছে এমনভাবে, যেখানে শুরু থেকেই এআই যুক্ত থাকবে। ফলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর চাহিদা বুঝতে ও সেবা দিতে পারবে। পরিবেশ সেন্সিং (Sensing):
এই প্রযুক্তির বেতার সংকেত ব্যবহার করে শুধু ডেটা আদান-প্রদানই নয়, বরং আশপাশের পরিবেশে মানুষ, গাড়ি বা বিভিন্ন বস্তুর উপস্থিতি নিখوঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। স্যাটেলাইট ও মহাকাশ সংযোগ:
সাধারণ মোবাইল টাওয়ারের পাশাপাশি এটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের (LEO) স্যাটেলাইট বা নন-টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্কের (NTN) সাথে সরাসরি যুক্ত হবে, ফলে দুর্গম অঞ্চলেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করা যাবে।
কবে চালু হবে?
বাণিজ্যিক চালুর সময়: বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদ ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো ২০৩০ সালকে সামনে রেখে ৬জি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টি-মোবাইলসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক টেলিকম অপারেটর যেমন রিলায়েন্স জিও ২০২৯ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বাণিজ্যিকভাবে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। মান নির্ধারণ: ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৬জি প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক মান ও চূড়ান্ত নীতিমালা নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ধাপে ধাপে বিস্তার: ৪জি এবং ৫জি-র মতোই ৬জি প্রযুক্তিও হুট করে সব দেশে একসাথে পৌঁছাবে না। উন্নত দেশগুলোতে আগে চালু হওয়ার পর ধাপে ধাপে এটি বিশ্বজুড়ে সহজলভ্য হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. ৬জি প্রযুক্তি কী?
এটি মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থার ষষ্ঠ প্রজন্ম, যা উচ্চগতির ইন্টারনেটের পাশাপাশি এআই এবং সেন্সিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করবে।
২. ৬জি-র অফিশিয়াল নাম কী দেওয়া হয়েছে?
জাতিসংঘের সংস্থা ITU এই প্রযুক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আইএমটি-২০৩০’ (IMT-2030) নাম দিয়েছে।
৩. ৬জি প্রযুক্তি কবে চালু হবে?
আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪. ৫জি থাকতে ৬জি নিয়ে কেন গবেষণা চলছে?
নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি তৈরি, বৈশ্বিক মান নির্ধারণ এবং গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরিতে দীর্ঘ সময় লাগে বলেই আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়।
৫. ৬জি কি শুধু ইন্টারনেটের গতি বাড়াবে?
না, ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি এটি পরিবেশের বস্তু শনাক্তকরণ, এআই সংযোগ এবং উন্নত স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের কাজ করবে।
৬. ৬জি কি দুর্গম এলাকায় কাজ করবে?
হ্যাঁ, এটি সরাসরি স্যাটেলাইট বা নন-টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্কের (NTN) সাথে যুক্ত থাকবে, ফলে পাহাড় বা সমুদ্র অঞ্চলেও সংযোগ পাওয়া যাবে।
৭. কোন মার্কিন কোম্পানি ৬জি নিয়ে কাজ করছে?
যুক্তরাষ্ট্রের টি-মোবাইলসহ বেশ কিছু বিশ্বখ্যাত টেলিকম কোম্পানি ২০২৯-২০৩০ সালের মধ্যে ৬জি চালুর পরিকল্পনা করছে।
৮. ৬জি প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক মান কে নির্ধারণ করছে?
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU)।
৯. ৬জি প্রযুক্তির মূল সুবিধা কী?
প্রচণ্ড দ্রুতগতির ডেটা ট্রান্সফার, নামমাত্র ল্যাটেন্সি, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি পরিচালনা এবং উন্নত স্মার্ট হোম প্রযুক্তি।
১০. সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য হতে ৬জি-র কত সময় লাগবে?
বাণিজ্যিক যাত্রা ২০৩০ সালে শুরু হলেও সারা বিশ্বে এটি সহজলভ্য হতে হতে ২০৩২-২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আপনার যদি কোনো বিষয় জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এইরকম আরো ইন্টারেস্টিং আনকমন সকল বিষয়ের তথ্য জানতে আমাদের ব্লগ ওয়েবসাইট (বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্লগ) TrickBD Free ( www.TrickBDFree.com ) এর সঙ্গেই থাকুন ।পোস্টে কোথাও ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন ধন্যবাদ আল্লাহ হাফেজ।৷
