রমজান মাসে করণীয় ও বর্জনীয় বিস্তারিত আলোচনা

রমজানে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয়

রমজানে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয়

আস সালামু আলাইকুম ট্রিকবিডিফ্রি.কম TrickBD Free ( TrickBDFree.com )  এর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো রমজান মাসে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে।অর্থাৎ রমজান মাসে আমাদের কি করতে হবে এবং কি করা যাবে না বিস্তারিত আলোচনা তো চলুন আলোচনা শুরু করি।

রমজান মাসে করণীয় ও বর্জনীয়

রমযান মাসটি হলো আল্লাহর তরফ থেকে আশীর্বাদ পাওয়ার সময়। এটা হলো শুদ্ধিকরণের মাস। এটা হলো আধ্যাত্মিক গুণাবলির সংস্কার সাধন করার একটি মাস। এ মাসটা হলো প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের শক্তি বৃদ্ধি করার আর হৃদয় ও আত্মার শুদ্ধিকরণের এবং স্বীয় কৃত গুনাহর খারাপ প্রভাব কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ।

এ মাসটা একজন মুসলমানকে তার জাগতিক সম্পৃক্ততাকে যতটুকু সম্ভব কমানোর জন্য এবং ইবাদতের কাজকে যতটুকু সম্ভব বাড়ানোর জন্য আহ্বান করে। একজন যাতে এ মাসে তার সময়ের বেশিরভাগই ইবাদতের মাধ্যমে কাটাতে পারে সেজন্য রমযানের আগেই তাকে এর কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। রমযানের সময় যে কাজগুলো যত্নসহকারে করা উচিত তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রদত্ত হলো:

রমজান মাসে করণীয়


১. প্রতি ওয়াক্ত সালাত মসজিদে জামায়াতে আদায় করতে হবে।

২. সাহরীর ওয়াক্তের সঠিক সময়ের পূর্বে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতে হবে। তাহাজ্জুদের সালাতের নির্ধারিত কোনো রাকাত নেই। তবুও এ সালাত চার, ছয় বা আট রাকাত আদায় করা শ্রেয়।

৩. ইশরাকের নফল সালাত (সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত) দুহা (চার রাকাত) যেটা দুপুরের আগে যেকোনো সময় আদায় করা যেতে পারে এবং আওয়াবীন (মাগরিবের পর ছয় রাকাত) আদায় করতে হবে।

৪. পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে। তেলাওয়াতের কোনো নির্ধারিত সীমা নেই। তবে একজনের দ্বারা যতটুকু সম্ভব বেশি তেলাওয়াত করতে হবে।

৫. যিকির ও তাসবিহ, বিশেষ করে নিম্নলিখিত তাসবিহ পাঠ করতে হবে।

৬.সালাত এবং দু'আ: এ ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট সালাতকে নির্ধারিত করা হয় নি। একজন ইহজগতে এবং পরজগতে তার প্রয়োজনীয় সবকিছুর জন্য দু'আ করতে পারেন। যাহোক, মহানবী-এর দু'আ এত ব্যাপক যে, এ দু'আগুলো একজন মুসলমানের ইহজগতে এবং পরজগতে যা প্রয়োজন সেটার সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

সুতরাং যেভাবে যে শব্দের মাধ্যমে নবী করীম আল্লাহর কাছে দু'আ করতেন সেভাবে তাঁর কাছে দু'আ করাটাই অধিক শ্রেয়। সর্বশক্তিমান

৭. সাদকাহ (দান) যাকাত, যেটা বাধ্যতামূলক সেটা আদায় করার পর রমযান মাসে একজনের উচিত তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা অনুযায়ী নফল সাদকাহ আদায় করা। বিশ্বাসযোগ্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রমযান মাসে গরিবদের দেখা-শুনা করার জন্য এবং তাদেরকে আর্থিক সাহায্য দেয়ার জন্য মহানবীর বিশেষ দৃষ্টি রাখতেন। সুতরাং একজন মুসলমানকে এ মাসে তার পক্ষে যতবেশি সম্ভব ততবেশি সাদকাহ দেয়া উচিত।

রমযানে কী কী কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে


সবগুনাহের কাজ থেকে রমযানে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। যদিও শরীয়াহ অনুযায়ী সমস্ত গুনাহের কাজ সেটা রমযানে হোক অথবা অন্য যে কোনো সময়ে হোক নিষিদ্ধ। তবে এ মাসে এ নিষেধের মাত্রা আরো কঠোর। এটা পরিষ্কার যে, রমযান মাসে প্রত্যেক মুসলমান কিছু নির্দিষ্ট কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে। যেমন: খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা হতে। যদি একজন মুসলমান রমযানের সময়ে গুনাহর কাজ চালিয়ে যায় তাহলে সেটা একটা পরিহাসের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সে জন্য গুনাহ পরিহার করে চলা এ মাসে আরো প্রয়োজন।

রমজান মাসে বর্জনীয়


নিম্নোক্ত কাজগুলোকে পুরোপুরিভাবে পরিহার করে চলতে হবে:

১. মিথ্যা বলা।

২. গীবত অথবা অসাক্ষাতে নিন্দা। অর্থাৎ একজনের অনুপস্থিতিতে তার নিন্দা করা।

৩. ঝগড়া-ফ্যাসাদ সাওম পালনরত অবস্থায় কাউকে ঝগড়া-ফাসাদ থেকে বিরত থাকতে মহানবী বিশেষভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে এ মর্মে নিষেধ করেছেন যে, যদি কেউ রমযানের সময় ঝগড়া করতে চায় তাকে আমাদের বলা উচিত যে আমরা সাওম পালন করছি, সে জন্য আমরা কোনো ঝগড়ায় লিপ্ত হতে প্রস্তুত নই।

৪. নিষিদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা।

৫. বে-আইনি পন্থায় উপার্জন।

৬. কোনো বৈধ কারণ ব্যতীত যে কাজটি একজনের ক্ষতি করতে পারে।এমন কাজ না করা।

৭. কারো ভৃত্য অথবা কর্মচারীকে তাদের ক্ষমতার বাইরে কাজ তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া।

৮.স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম) বা নাটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করা। এতে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট হয়।

৯.অসংলগ্ন পোশাক ও সাজগোজ: বাইরে বের হওয়ার সময় অতিরিক্ত মেকআপ বা এমন পোশাক পরিধান করা যা পর্দার খেলাপ বা মানুষের নজর কাড়ে।

১০. ইবাদত ফাঁকি দিয়ে দিনের অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেওয়া। এগুলো করা জাবে না।

১১.রোজার কারণে ক্লান্ত হয়ে ছোটখাটো বিষয়ে রাগ করা, চিৎকার করা বা পরিবারের সদস্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা।

১২.ঈদের শপিংয়ের জন্য রমজানের মূল্যবান সময়গুলো মার্কেটে কাটিয়ে দেওয়া। চেষ্টা করুন রমজানের আগেই শপিং শেষ করতে অথবা খুব দ্রুত সেরে ফেলতে।

সংক্ষেপে সব ধরনের গুনাহ থেকে বিরত থাকতে একজনকে সর্বতোভাবে চেষ্টা করতে হবে এবং তার চোখ, কান, জিহ্বা এবং অন্যান্য সকল অঙ্গকে বেআইনি কাজে লিপ্ত থাকা থেকে বিরত রাখতে হবে।

একবার যদি কোনো মুসলমান রমযানের মাসটা এভাবে অতিবাহিত করে, তাহলে সে তাকে এমন একটি আধ্যাত্মিক শক্তি দ্বারা প্রস্তুত করতে পারবে যেটা তাকে আল্লাহর খুশি অনুযায়ী ইসলামিকভাবে জীবনযাপন করার কাজটিকে সহজতর করে তুলবে।

পরিশেষে বলা যায় যে উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে রমজান মাসে আমাদের কি করণীয় ও বর্জনীয় তাই উপরোক্ত বিষয়গুলো আমাদের মেনে চলতে হবে।

আপনার যদি কোনো বিষয় জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এইরকম আরো ইন্টারেস্টিং আনকমন পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট www.TrickBDFree.com এর সঙ্গেই থাকুন ।পোস্টে কোথাও ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন ধন্যবাদ আল্লাহ হাফেজ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url