তারাবির নামাজের নিয়ত ও দোয়া – বিস্তারিত জানুন

তারাবির নামাজের নিয়ত ও দোয়া – বিস্তারিত আলোচনা

তারাবির নামাজের নিয়ত ও দোয়া – বিস্তারিত জানুন
আস সালামু আলাইকুম ট্রিকবিডিফ্রি.কম TrickBD Free ( TrickBDFree.com ) এর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো তারাবির নামাজের নিয়ত ও দোয়া বিস্তারিত আলোচনা। 

তারাবির নামাজ কী?

রমজান মাস মানেই বিশেষ এক ইবাদতের আবহ। দিনের বেলা রোজা, আর রাতের বেলা তারাবি। কিন্তু তারাবি আসলে কী? রমজান মাসে এশার নামাজের পর যে ২০ রাকাত নামাজ পরা হয় সেটা হলো তারাবি নামাজ।

তারাবির নামাজের অর্থ

“তারাবি” শব্দটি আরবি “তারওয়িহা” থেকে এসেছে, যার অর্থ বিশ্রাম নেওয়া। প্রতি চার রাকাত পর একটু বিশ্রাম নেওয়া হতো বলে একে তারাবি বলা হয়।

তারাবির নামাজের ফজিলত

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়ামুল লাইল (তারাবি) আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। এটা কি ছোট কোনো সুসংবাদ?


তারাবির নামাজের নিয়ত কীভাবে করতে হয়?

নিয়ত মানে হলো অন্তরের ইচ্ছা। মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে অনেকেই শিখার সুবিধার জন্য পড়ে থাকেন।

আরবি নিয়ত

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ سُنَّةَ التَّرَاوِيحِ رَكْعَتَيْنِ لِلَّهِ تَعَالَى

বাংলা নিয়ত

আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দুই রাকাত তারাবির সুন্নত নামাজ আদায় করার নিয়ত করলাম।

মনে মনে নিয়ত করলেই কি যথেষ্ট?

হ্যাঁ, অবশ্যই। অন্তরের দৃঢ় ইচ্ছাই আসল নিয়ত। মুখে না বললেও নামাজ হয়ে যাবে।


তারাবির নামাজ কত রাকাত?

এই প্রশ্নটি অনেকেই করেন।

৮ রাকাত বনাম ২০ রাকাত

কেউ ৮ রাকাত পড়েন, কেউ ২০ রাকাত। উভয় মতই ইসলামের মধ্যে বিদ্যমান। চার মাযহাবের অধিকাংশ আলেম ২০ রাকাতকে সমর্থন করেছেন।

সাহাবীদের আমল

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এর সময় ২০ রাকাত জামাতে আদায় করা হতো। তিনি মুসল্লিদের এক ইমামের পেছনে একত্রিত করেন।


তারাবির নামাজের দোয়া

চার রাকাত পর দোয়া

চার রাকাত শেষে একটি বিশেষ দোয়া পড়ার প্রচলন আছে।

প্রচলিত তারাবির দোয়া (আরবি)

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ
سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ...

দোয়ার বাংলা অর্থ

সেই সত্তা পবিত্র যিনি রাজত্ব ও মালিকানার অধিকারী। তিনি মহিমা ও মর্যাদার অধিকারী।


তারাবির নামাজের নিয়ম

জামাতে আদায়ের বিধান

মসজিদে জামাতে আদায় করা উত্তম। এতে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ে।

একা আদায় করা যাবে কি?

হ্যাঁ, যদি কোনো কারণে জামাতে না যেতে পারেন, তাহলে একাও পড়তে পারবেন।

নারীদের জন্য বিধান

নারীরা ঘরে পড়লে বেশি সওয়াব পান। তবে চাইলে মসজিদেও যেতে পারেন, পর্দার বিধান মেনে।


তারাবির নামাজে কোরআন খতম

খতমে তারাবি কী?

পুরো রমজানে সম্পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত করে তারাবি পড়াকে খতমে তারাবি বলা হয়।

সুরা তারাবি কি?

সুরা পরে যে তারাবি পড়া হয় বা খতম দেওয়া হয় না এটাকে বকে সুরা তারাবি।

কেন কোরআন তেলাওয়াত গুরুত্বপূর্ণ?

রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। তাই এই মাসে কোরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


তারাবির নামাজের সময়

এশার পর থেকে ফজর পর্যন্ত

তারাবির সময় শুরু হয় এশার নামাজের পর এবং শেষ হয় ফজরের আগে।

উত্তম সময়

এশার পরপর পড়া উত্তম, তবে রাতের শেষাংশে পড়লে আরো বেশি সওয়াবের আশা করা যায়।


তারাবির নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব

হাদিসের আলোকে

মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সাথে কিয়াম করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।”

গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি

ভাবুন তো, বছরের পর বছর জমে থাকা ভুলগুলো যদি মুছে যায়—তারাবির মতো সহজ ইবাদতের মাধ্যমে!


সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

  • তাড়াহুড়ো করে নামাজ পড়া

  • নিয়ত ভুলভাবে বোঝা

  • দোয়া না জেনে পড়া

  • মনোযোগহীন থাকা

নামাজ যেন শুধু শারীরিক ব্যায়াম না হয়—হৃদয়ের সংযোগটাই আসল।


উপসংহার

তারাবির নামাজ শুধু একটি সুন্নত ইবাদত নয়, বরং রমজানের আত্মা। নিয়ত, খুশু-খুযু, দোয়া—সব মিলিয়ে এটি এক অপূর্ব আত্মিক সফর। আপনি কি প্রস্তুত এই রমজানে নিজেকে বদলে ফেলতে? আজ থেকেই শুরু করুন।


প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

১. তারাবির নামাজ কি ফরজ?

না, এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

২. নারীরা কি তারাবি জামাতে পড়তে পারেন?

হ্যাঁ, তবে ঘরে পড়া উত্তম।

৩. ৮ রাকাত পড়লে কি হবে?

হ্যাঁ, হবে। তবে ২০ রাকাত অধিক প্রচলিত।

৪. দোয়া না জানলে কি সমস্যা?

না, দোয়া না পড়লেও নামাজ হবে।

৫. তারাবি না পড়লে কি গুনাহ হবে?

সরাসরি গুনাহ নয়, তবে বড় সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন।


আপনার যদি কোনো বিষয় জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এইরকম আরো ইন্টারেস্টিং আনকমন সকল বিষয় তথ্য জানতে আমাদের ব্লগ ওয়েবসাইট (বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্লগ) Trick BD Free ( www.TrickBDFree.com ) এর সঙ্গেই থাকুন ।পোস্টে কোথাও ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন ধন্যবাদ আল্লাহ হাফেজ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url