ইফতারের সঠিক দোয়া ও আমল: যা আমাদের জানা জরুরি

ইফতারের সঠিক দোয়া ও আমল: যা আমাদের জানা জরুরি

ইফতারের সঠিক দোয়া ও আমল: যা আমাদের জানা জরুরি

আস সালামু আলাইকুম ট্রিকবিডিফ্রি.কম TrickBD Free ( TrickBDFree.com ) এর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো ইফতারের সঠিক দোয়া ও আমল বিস্তারিত আলোচনা। 

ইফতারের দোয়া ও আমল বিস্তারিত আলোচনা 

রমজান মাস মানেই আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তটি একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং ইবাদতের। নবীজি (সা.) বলেছেন, ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আজকের ব্লগে আমরা জানবো ইফতারের সহিহ দোয়া, উচ্চারণ ও এর নিয়ম সম্পর্কে।

ইফতারের সুন্নত দোয়া 

ইফতারের সময় তৃষ্ণা মেটানোর পর এই দোয়াটি পড়া সুন্নাহ। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.) পাঠ করতেন।

  • আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

  • উচ্চারণ: জাহাবায জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।

  • বাংলা অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরস্কারও নির্ধারিত হলো। (আবু দাউদ, হাদিস নং- ২৩৫৭)

 ইফতারের শুরুতে সাধারণ দোয়া

ইফতার শুরু করার সময় আমরা সাধারণত এই দোয়াটি পড়ে থাকি:

  • আরবি: اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ

  • উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু।

  • বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।

ইফতার করার পর যে দোয়া পড়বেন

আরবি

بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিজের মাধ্যমে ইফতার করেছি। (মুআজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)

ইফতারের পর আরো একটি আমল বা দোয়া

اَللهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِيْ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল-লাতী ওয়াসি’তা কুল্লা শাইইন আন তাগফিরা লী

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার সেই রহমতের উসিলায় প্রার্থনা করছি সব কিছুর উপর পরিব্যপ্ত, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। (সুনানে ইবনে মাজা: ১৭৫৩)


ইফতারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আদব

ইফতার শুধুমাত্র পেট ভরে খাওয়ার নাম নয়, এর মধ্যে রয়েছে অনেক শিক্ষা। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদব তুলে ধরা হলো:

  1. দ্রুত ইফতার করা: সূর্যাস্তের পর সময় হওয়ার সাথে সাথে দেরি না করে ইফতার করা সুন্নত।

  2. খেজুর দিয়ে শুরু করা: নবীজি (সা.) সাধারণত তাজা খেজুর বা শুকনো খেজুর (খুরমা) দিয়ে ইফতার শুরু করতেন। খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে শুরু করা উত্তম।

  3. বেশি বেশি দোয়া করা: ইফতারের ঠিক আগের মুহূর্তটি দোয়া কবুলের সময়। তাই খাবার সামনে নিয়ে বসে না থেকে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করা উচিত।

  4. পরিমিত আহার: সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি।

ইফতার সংক্রান্ত সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

১. ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার গ্যারান্টি আছে কি?

  • উত্তর: হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না; তার মধ্যে একজন হলো রোজাদার, যখন সে ইফতার করে।" (তিরমিজি)। তাই ইফতারের কয়েক মিনিট আগে নিজের জন্য এবং উম্মাহর জন্য দোয়া করা উচিত।

২. খেজুর বা পানি না থাকলে কী দিয়ে ইফতার করা উচিত?

  • উত্তর: খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। যদি খেজুর না থাকে তবে পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম। আর যদি পানিও না থাকে, তবে অন্য যেকোনো হালাল খাবার বা পানীয় দিয়ে ইফতার করা যাবে।

৩. ইফতারের দোয়াটি কখন পড়তে হয়? খাবার মুখে দেওয়ার আগে না পরে?

  • উত্তর: "জাহাবায জামাউ..." (পিপাসা দূর হলো...) দোয়াটি মূলত ইফতার শুরু করার পর বা পানি পান করার পর পড়া সুন্নত। কারণ এই দোয়ার অর্থ হচ্ছে 'পিপাসা নিবারণ হয়েছে'। তবে ইফতার শুরু করার একদম শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' বলা জরুরি।

৪. আযানের শব্দ শোনা পর্যন্ত কি অপেক্ষা করা জরুরি?

  • উত্তর: না। ইফতারের মূল সময় হলো সূর্যাস্ত। নিশ্চিতভাবে সূর্য ডুবে গেলে আযান হওয়ার আগেই ইফতার করা জায়েজ এবং এটিই সুন্নতের নিকটবর্তী। তবে সতর্কতার জন্য ক্যালেন্ডারের সময়ের সাথে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

৫. ভুলবশত সময়ের আগে ইফতার করে ফেললে করণীয় কী?

  • উত্তর: যদি কেউ ভুলবশত সময়ের আগে ইফতার করে ফেলে, তবে অধিকাংশ আলেমের মতে সেই রোজাটি কাজা করতে হবে। তবে এটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য কোনো গুনাহ হবে না।

৬. অন্যকে ইফতার করানোর ফজিলত কী?

  • উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।" (তিরমিজি)।


উপসংহার

ইফতার আমাদের ধৈর্য ও শুকরিয়ার শিক্ষা দেয়। সহিহ আমল ও দোয়ার মাধ্যমে আমাদের ইফতার হোক আরও বরকতময়। আল্লাহ আমাদের সবার রোজা কবুল করুন। আমিন।

আপনার যদি কোনো বিষয় জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এইরকম আরো ইন্টারেস্টিং আনকমন সকল বিষয় তথ্য জানতে আমাদের  ব্লগ  ওয়েবসাইট (বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্লগ) Trick BD Free ( www.TrickBDFree.com ) এর সঙ্গেই থাকুন ।পোস্টে কোথাও ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন ধন্যবাদ আল্লাহ হাফেজ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url